Sat. Oct 24th, 2020

mytraveladvisor.co.in

Tour, Travel Expert and Influencer

একদিনের সেরা আউটিং শরৎবাটি সামতাবেড় | One day Trip Sarat Chandra Kuthi

1 min read
Sarat Chandra Kuthi

Sarat Chandra Kuthi

একদিনের সেরা আউটিং শরৎবাটি সামতাবেড় | One day Trip Sarat Chandra Kuthi
 
সামতাবেড় না যাওয়াদের মধ্যে যদি পড়েন, তাহলে সুযোগ বুঝে একদিন বেরিয়ে পড়তে পারেন। হাওড়ার  দেউলটি স্টেশনে নেমে টোটো করে দিব্যি পৌঁছে যেতে পারেন। কিম্বা যেতে পারেন বম্বে রোড ধরেও। কোলকাতা থেকে ঘণ্টা দুই-আড়াই লাগে।
 
রূপনারায়ণের তীরে  দিদি অনিলাদেবীর বাড়িতে বেড়াতে এসে জায়গাটা ভারী ভালো লেগে যায় কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের।  রেঙ্গুনের মড়কে স্ত্রী-পুত্রকে খোয়ানোর  পর হিরণ্ময়ী দেবীর সঙ্গে তাঁর যে সম্পর্ক তৈরি হয় সেটি তখনকার বঙ্গীয় সমাজ ভালোভাবে মেনে নেয় নি। কাজেই তিনি সেই রূপনারায়নের তীরে সামতা গ্রামে ১৯১৯ সালে ১১০০ টাকা দিয়ে বেশ খানিকটা জায়গা কিনে  পাঁচিল দিয়ে ঘেরেন ও নাম দেন সামতাবেড়।
Sarat Chandra Kuthi
Sarat Chandra Kuthi
 
১৯২৩ সালে স্থানীয় মিস্ত্রি গোপাল দাসকে দিয়ে বার্মা ধাঁচের যে দোতলা বাড়িটি তিনি বানানো শুরু করেন সেটি তাঁর রূচি, সৌন্দর্যবোধ ও সৌখিনতার পরিচয় বহন করে আজও বিদ্যমান। তাঁর ছোটভাই প্রকাশচন্দ্রের উত্তরসুরীরা এই শরৎকুটিরকে যে সাধারণের জন্য দর্শনীয় করে রেখেছেন।
 
১৯২৬ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত শরৎচন্দ্র এ বাড়িতে বাস করতেন। এখানে বসেই লেখেন কয়েকটি জনপ্রিয় ছোটগল্প- রামের সুমতি,অনুরাধা, সতী, মহেশ, অভাগীর স্বর্গ। এই বাড়ির উঠানের পেয়ারা গাছ নাকি রামের সুমতির পেয়ারা গাছ।  সামনের পুকুরে নাকি থাকতো শরৎচন্দ্রের পোষা মাছ কার্তিক,  গনেশ। এ ছাড়া এখানেই তিনি লেখেন তাঁর শেষ উপন্যাস বিপ্রদাস।
 
 স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বিপ্লবীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয় হয়ে উঠেছিল এ বাড়িটি। শরৎকুটির দর্শকদের জন্য খোলা থাকে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ১১টা, বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। বাড়িতে দেখা যায় শরৎচন্দ্রের ব্যবহৃত বই, আলমারি। তখনকার চেয়ার-টেবিল, বসার ঘর, লেখার ঘর। দেখা যায় প্রাচীন ঘড়ি, জুতা, গড়গড়া। ২০০৭ সালে ভারত সরকার কুটিরকে ‘হেরিটেজ’ ঘোষণা করেছে। বাড়িটিতে থাকার সময় শরৎচন্দ্র নিখরচায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করে স্থানীয়দের কাছে ডাক্তার হিসাবে বেশি বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। তাঁর সে পরিচয় এই কুটির আজও বহন করে।
 
প্রান্তিক মানুষদের সাথে এভাবে তার গভীর যোগাযোগ গড়ে ওঠে। তাঁদের সাথে এখানে থাকতেন তাঁর মেজোভাই প্রভাসচন্দ্র যিনি বেলুড়মঠের শিষ্য ছিলেন এবং বেদানন্দ নামে পরিচিত। বাড়ির সীমানা ছুঁয়ে বয়ে যেত রূপনারায়ন। যে পথে নৌকাতে আসতেন বহু বিপ্লবী,  চিত্তরঞ্জন দাশের মতো নেতারা। বাড়ির খিড়কি দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতেন গুপ্ত মিটিংয়ের পর।  রূপনারায়ন এখন কিছুটা  দূরে।  দোতলার বারান্দা থেকে দেখা যায় যদিও।
এখন বাড়ি থেকে রূপনারায়ন  পর্যন্ত  যাওয়ার সুন্দর রাস্তা করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
 
 নদী তীরে গেলে আপনি দেখতে পাবেন একদিকে দিগন্তবিস্তৃত নদী অন্যদিকে সীমাহীন সবুজ ক্ষেত।  নদীতে নাকি নৌকা বিহার হয়। বহুদূরে অপর পাড়ে দেখা মেলে ফুলের ক্ষেতের।
 
এক কথায় সমতাবেড় একদিনের আউটিংয়ের জন্য আদর্শ।
 
 
Mytraveladvisor
Website :  https://www.mytraveladvisor.co.in
Facebook : https://www.facebook.com/mytraveladvisor.co.in
Instagram : https://www.instagram.com/mytraveladvisor0/ 
youtube : https://www.youtube.com/channel/UCcZIAAHHJddUPBcvBVsq5gA 
Pinterest : https://in.pinterest.com/mytraveladvisor/
 
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *