Sat. Oct 24th, 2020

mytraveladvisor.co.in

Tour, Travel Expert and Influencer

স্বপ্নের লে-লাদাখ যাত্রা || Incradable Leh Ladakh Trip

1 min read
স্বপ্নের লে-লাদাখ যাত্রা || Incradable Leh Ladakh Trip

স্বপ্নের লে-লাদাখ যাত্রা || Incradable Leh Ladakh Trip

স্বপ্নের লে-লাদাখ যাত্রা || Incradable Leh Ladakh Trip

আপনি যদি এডভেঞ্চার বা ট্রাভেল প্রিয় কারুকে প্রশ্ন করেন, ভারতের কোথায় আপনি একবারের জন্য হলেও যেতে চান? নিঃসন্দেহে সবার উত্তর হবে, “লেহ-লাদাখ”। ঠিক তাই, যারা গেছে তারা জানে এ যেন এক স্বর্গ, যা পৃথিবীর বুকে নেমে এসেছে। এই ভুবনে যদি স্বর্গ কোথাও থেকে থাকে তা এখানেই আছে। আজ আমাদের এক্সট্রিম ডেসটিনেশন স্বপ্নের লাদাখ। আসুন শুরু করা যাক। প্রথমেই একটি টিকেট করে নিন হাওড়া-কলকা মেইলের। কলকাতা থেকে কলকা যাওয়ার ট্রেনটি হল কলকা মেইল (ট্রেন নাম্বার ১২৩১১), হাওড়া থেকে রাত ০৭:৪০ এ ছেড়ে গিয়ে তৃতীয় দিন সকাল ০৪:৩০ নাগাদ কলকা পৌঁছে। স্লিপার ক্লাস ৬৮০ টাকা, এসি থ্রি-টায়ার ১৮৫০ টাকা, এসি টু-টায়ার ২৭০০ টাকা এবং এসি ফার্স্টক্লাস ৪৮০০ টাকা (প্রায়)। কলকা পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে টিফিন সেরে নিয়ে টয় ট্রেনের টিকেট করুন, ভাল হয় আগে থেকে করে রাখতে পারলে। কলকা থেকে মোট পাঁচটি টয়ট্রেন ছেড়ে যায় সিমলা’র উদ্দেশ্যে। এগুলো হলঃ-

ভাড়া অসংরক্ষিত দ্বিতীয় শ্রেনী ১০০ টাকার মধ্যে আর প্রথম শ্রেনী ২৫০-৩৫০ টাকা’র মধ্যে। উল্লেখ্য যে, টয় ট্রেন যা ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি থেকে সিমলাকে, কালকা শহরটির সঙ্গে সংযুক্ত রেখেছে এবং শহরটিতে পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে অন্যতম জনপ্রিয় রাস্তা তবে এটি খুবই ধীর। তবে, পারিপার্শ্বিক দৃশ্য পরিদর্শনের জন্য যে কারোও কাছে এই 96 কিলোমিটার দীর্ঘ ট্র্যাকটি খুবই সুন্দর। রাস্তা বরাবর, ভ্রমণার্থীরা চারপাশের অঞ্চলের এক অত্যাশ্চর্য দৃ্শ্য পরিদর্শন করতে পায়। রেলটি ১০৩ টি সুড়ঙ্গপথ ও ,৮০৬-টি সেতুর মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করে।

স্বপ্নের লে-লাদাখ যাত্রা || Incradable Leh Ladakh Trip
স্বপ্নের লে-লাদাখ যাত্রা || Incradable Leh Ladakh Trip

সিমলা পৌঁছে একটু বিশ্রাম নিন, ঘুরে দেখুন মল, স্ক্যান্ডাল পয়েন্ট, রিজ এরিয়া, জাখু হিল, চার্চ ইত্যাদি। সিমলা থেকে হিমাচল রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন এর মোট তিনটি গাড়ী ছেড়ে যায় মানালির উদ্দেশ্যে। প্রথমতই সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ, ভাড়া ৩৮০ টাকার মত। এছাড়া রাত সন্ধ্যা সাতটা এবং রাত পৌনে দশটার দিকে আরও দুটি বাস ছেড়ে যায় যার ভাড়া ৪০০ টাকার মত। এছাড়া হিমাচল প্রদেশ ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এর একটি বাস ছেড়ে যায় সকাল সাড়ে আটটার দিকে, ভাড়া ৫৫০ টাকা। আপনি যদি সিমলায় রাত কাটাতে না চান তাহলে রাতের যে কোন গাড়ীতে রওনা হয়ে যান মানালির উদ্দেশ্যে। অন্যথায় সিমলায় বাজেটের মধ্যে একটা হোটেলে উঠে চমৎকার একটা ঘুম দিয়ে বিশ্রাম নিন, সকালে ফ্রেশ হয়ে টিফিন করে রওনা দিন মানালির উদ্দেশ্যে। এতে লাভ হবে দিনের আলোয় সিমলা থেকে মানালি যাওয়ার রাস্তার রুপসুধা পান করার সুযোগ হবে। আপনি যদি রাতের গাড়ীতে সিমলা থেকে মানালি রওনা দেন তবে আপনি যখন মানালি পৌঁছবেন, তখন হয় লেহ এর উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে গেছে, অথবা যাবে বলে। সারা রাতের জার্নির পর আবার লম্বা একটা পাহাড়ি যাত্রা, তাও সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এত উঁচুতে, কোন মতেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। শরীরকে খাপ খাওয়ানোর জন্য একটা রাত মানালিতে থাকুন। মানালির আশেপাশে ঘুরে বেড়ান, হিড়িম্বা দেবী মন্দির, মল এরিয়া, তিব্বতীয় মনস্ট্রি সহ বেশ কিছু জায়গা দেখার মত আছে। আর যারা সকাল বেলা সিমলা থেকে মানালি রওনা হয়েছেন, তাদের তো একটা রাত এমনিতেও মানালিতে থাকতেই হবে।
এবার পরদিন, মানালি থেকে লেহ যাত্রা করার পালা। মানালি থেকে সকাল নয়টায় লেহ এর উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়, ভাড়া পড়বে ৩০০০ টাকা। এই ভাড়ায় আপনি পাবেন মানালি থেকে লেহ পরিবহনের সাথে মাঝে এক রাতের হোটেলে থাকা এবং প্রথম দিন রাতের খাবার সহ পরের দিনের সকালের টিফিন। প্রথম দিন বাস মানালি থেকে রওনা হয়ে কেলং এসে যাত্রা বিরতি করবে এবং এখানেই রাত্রি যাপন।
তো মানালি থেকে যাত্রার পরের দিন সন্ধ্যে বেলা আপনি পৌঁছে যাবেন স্বপ্নের শহর লেহ। এখানে এসে হোটেল খুঁজে পেতে একটু বেগ পেতে হবে। তাই রওনা হওয়ার আগেই, অনলাইনে কোন এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করে হোটেল বুক করে রাখতে পারেন। নইলে ঝামেলায় পড়তে হবে। আর আপনি যদি বাজেট ট্রাভেলার না হয়ে মন ভরে উপভোগ করতে চান পুরো যাত্রা পথ, তাহলে দিল্লী বা মানালি হতে জীপ সাফারি রিজার্ভ করুন, কমপক্ষে ৫/৬ জনের দল বানিয়ে। একটা মনেরাখার মতো একটা যাত্রাহবে, যখন যেখানে ইচ্ছে গাড়ী থামিয়ে ঘুরে দেখতে পারবেন।
যাই হোক, লেহতে রাতে থেকে প্রথম দিন লেহ শহর এবং এর আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করুন। এদিন সকালে টিফিন করে ঘুরে আসতে পারেন আলচি মনস্ট্রি থেকে। লেহ থেকে প্রায় সত্তর কিলোমিটার দূরত্বে প্রায় ১২০০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই এলাকা লেহ বেড়াতে আসা পর্যটকদের অন্যতম দ্রষ্টব্য। এই যাত্রায় সময় লাগবে ঘণ্টা দুয়েক আর খরচ ১০০-১৫০টাকা। যাত্রা পথে দেখতে পারবেন ইন্দুস এবং ঝান্সকার নদীর মিলনস্থল, নিমু। ফেরার সময় দেখুন মিলিটারির “হল অব ফেম”। এরপর হোটেলে রাত্রি যাপন। উল্লেখ্য এদিন এসেই নুব্রা ভ্যালী বা পেংগঙ্গ লেক যাওয়ার প্ল্যান করবেন না। উচ্চতার সাথে শরীরকে খাপ খাইয়ে নেয়া অতীব জরুরী।
পরের দিন যাত্রা করুন নুব্রা ভ্যালী’র উদ্দেশ্যে। লেহ থেকে দেসকিত তথা নুব্রা ভ্যালীর উদ্দেশ্যে প্রতি মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার আর শনিবার বাস ছেড়ে যায় সকাল ছয়টায়; আর ঠিক তার পরের দিনগুলোতে সকাল সাতটায় ফিরতি যাত্রা করে। প্রায় ২০০ টাকা। লেহ হতে সুমুর এবং পানামিক এর উদ্দেশ্যেও বাস ছেড়ে যায় প্রতি মঙ্গলবার, ভাড়া যথাক্রমে ২৬০ এবং ২৯০ টাকার মত। নুব্রা ভালী যেতে হবে আপনাকে ১৮৩৬০ ফুট উচ্চতার খাংডুরলা পাস হয়ে যা একদা বিশ্বের সর্বোচ্চ মোটরেবল রোড বলে বিবেচিত হত। চমৎকার নুব্রা ভ্যালী আপনাকে নিঃসন্দেহে বিমোহিত করবে। ১২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৪-৫ ঘণ্টা। বিকেল বেলা ঘুরে দেখুন হুন্দার এবং দিসকিত মনস্ট্রি। চাইলে সাদা বালির মরুভুমিতে ক্যামেল সাফারি উপভোগ করতে পারেন। দুই কুজ বিশিষ্ট এই ক্যামেল তথা উট একমাত্র নুব্রা ভ্যালীতেই দেখা যায়। রাতের আবাস হতে পারে ক্যাম্প স্টাইলের নানান আবাসন সাইটগুলো।
পরের দিন সকালে রওনা হয়ে যান ফের লেহ এর উদ্দেশ্যে। গাড়ীর ভাড়া আগেই বলে দিয়েছি। দুপুর নাগাদ লেহ পৌঁছে, হোটেলে চেকইন করে ফ্রেশ হয়ে নিন, লাঞ্চ শেষে চাইলে রেস্ট নিন। অথবা ঘুরে দেখুন স্থানীয় মার্কেট, যেখানে পাবেন পশমিনা শাল, নানান চাইনিজ এবং তিব্বতীয় হ্যান্ডিক্রাফটস, পাবেন লাদাখি কাঠের নানান সুভেনিয়র।
এবার স্বপ্নের শেষসীমায় যাত্রা, ভারত এর সীমান্তবর্তী বিখ্যাত প্যাংগঙ্গ লেক। চ্যাং লা পাস দিয়ে লেহ থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দূরের এই লেকে পৌঁছতে সময় লেগে যাবে ০৪-০৫ ঘণ্টার মত। লেহ থেকে সকাল সাড়ে ছয়টায় প্রতি শনিবার আর রবিবার বাস ছেড়ে যায় প্যাংগঙ্গ এর উদ্দেশ্যে, ভাড়া ২৬০ টাকার মত। বাসগুলো ফিরে আসে পরের দিন। তাই একদিনের বেশী থাকার প্ল্যান করলে একটু সাবধানে প্ল্যান করবেন। শনিবার গিয়ে সোমবার ফিরে আসতে পারেন, তাহলে দুই রাত থাকা যাবে সেখানে। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ৪,৪০০ মিটার উচুর এই স্বচ্ছ নীল জলএর হ্রদের। থ্রি ইডিয়ট ছবির কল্যানে এই হৃদের কিছুটা রূপ সবাই কমবেশি দেখেছি আমরা। বিকেল বেলা এখানকার স্থানীয় গ্রামগুলো ঘুরে দেখুন, চাইলে থ্রি ইডিয়ট মুভির সেই বিখ্যাত স্কুলটি টিকেট কেটে ঘুরে দেখতে পারেন। শেষ বিকেলে এই হ্রদের পাশে বসে থাকাটা হতে পারে আপনার জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত।
পরদিন ফিরতি যাত্রা লেহ এর দিকে। একই ভাড়ায়, একই গাড়ীতে। সকালের প্যাংগঙ্গ লেক আর এর রূপ, আরকেটি অপার সৌন্দর্যের ভাণ্ডার। খুব ভোরে উঠে এই রূপসুধা পান শেষে টিফিনের ঝামেলা চুকিয়ে রওনা হন লেহ এর উদ্দেশ্যে। পথে পড়বে হেমিস মনস্ট্রি। দুপুরের মধ্যে লেহ ফিরে এসে বিকেলের অবসর সময় কাটান নিজের ইচ্ছে মতন। লেহ থেকে শ্রীনগর এর উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায় দুপুর দুটার দিকে, ভাড়া ৭০০-৮০০ টাকা। সারারাত ভ্রমণ শেষে সকাল বেলা শ্রীনগর পৌঁছে। যেহেতু এদিন বাস ধরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, তাই একদিন বেশী আপনাকে লেহ থাকতেই হচ্ছে। সকাল বেলা চাইলে লেহ এর আশেপাশে পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখতে পারেন, পারেন কিছু শপিং বাকী থাকলে তা শেষ করতে। এবার দুপুরের বাসে রওনা হয়ে যান শ্রীনগর।
পরদিন সকালে শ্রীনগর পৌছে ফ্রেশ হয়ে টিফিন করে ঘুরে বেড়ান মুঘল গার্ডেনগুলোতে। এরপর দুপুরের দিকে বাজেটের মধ্যে কোন একটা হাউজবোটে উঠে পড়ুন একদিনের জন্য, অবশ্যই গার্ডেন এলাকার পাশে। বিকেলে শিকারা রাইড করুন। চাইলে বিখ্যাত “মুঘল দরবার” রেস্টুরেন্টের বিখ্যাত ওয়াজওয়ান চেখে দেখতে পারেন, যদিও একটু এক্সপেন্সিভ।
পরদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে টিফিন করে ধরুন জম্মুর বাস। শ্রীনগর থেকে প্রতিদিন সকালবেলা বাস ছেড়ে যায় জম্মুর উদ্দেশ্যে, ভাড়া ২৫০ টাকা থেকে শুরু। সময় লাগে ১১-১২ ঘণ্টার মত। সন্ধ্যের পরে জম্মু পৌঁছে চলে আসুন রেল ষ্টেশন। এখান থেকে জম্মু তাওয়াই ট্রেন ধরে রওনা হন কলকাতা উদ্দেশ্যে। এক্ষেত্রে, একটু দেরী হলেই ট্রেন মিস করতে পারেন। তাই একরাত চাইলে থেকে যেতে পারেন জম্মুতে, এতে করে জম্মু দেখা হয়ে যাবে।
সন্ধ্যে সাতটায় জম্মু থেকে কলকাতা উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় প্রতিদিন একটি ট্রেন, কলকাতা পোঁছে একদিন পরে প্রায় ৪৫ ঘণ্টার যাত্রা শেষে বেলা চারটা নাগাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *