Sat. Oct 24th, 2020

mytraveladvisor.co.in

Tour, Travel Expert and Influencer

ঘুরে আসুন কৌশনি, বিনসর || Binsar & Kausani Trip

1 min read
ঘুরে আসুন কৌশনি, বিনসর Binsar & Kausani Trip

ঘুরে আসুন কৌশনি, বিনসর Binsar & Kausani Trip

ঘুরে আসুন কৌশনি, বিনসর || Binsar & Kausani Trip

উত্তরাখণ্ড, ভারতের উত্তর দিকে অবস্থিত এই ভূখণ্ডটি প্রাকৃতিক দৃশ্যের এক অভূতপূর্ব কোলাজ যার প্রতিটি শিরা-উপশিরায় বর্তমান অফুরন্ত মনোরম দৃশ্যপটের প্রাকৃতিক সম্ভার। আমাদের গন্তব্য কুমায়ুন হিমালয়ের আলমোড়া, কৌশানি, ও চৌকরি। তারপর হয়ে ফিরে আসা।

ঘুরে আসুন কৌশনি, বিনসর Binsar & Kausani Trip
ঘুরে আসুন কৌশনি, বিনসর Binsar & Kausani Trip

পাহাড়িয়া পথ দিয়ে পাইন গাছের সবুজ জঙ্গলের বুক চিরে আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলল কৌশানির উদ্দেশে। কৌশানিতে যে হোটেলটি বুক করা হয়েছিল সেটির বিশেষত্ব হল তার ঘরের দেওয়ালপ্রমাণ জানলা দিয়ে দেখা যাওয়া হিমালয়ের শৃঙ্গ। কিন্তু তা কোন সময় ধরা দেবে তা নির্ভর করে আবহাওয়ার উপর। সাধারণত এক পশলা বৃষ্টির পর এই তুষারশৃঙ্গ দেখার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি। তাই যখন হোটেলে গিয়ে জানতে পারলাম যে সদ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে ছুটলাম ঘরের দিকে। জানলার পর্দা সরাতেই চাক্ষুষ করলাম চিরতুষারাবৃত হিমালয়ের গগনচুম্বী শৃঙ্গ। খাওয়াদাওয়া সেরে গেলাম কৌশানির অন্যতম আকর্ষণ গাঁধীজির আশ্রমে। দুষ্প্রাপ্য সংগ্রহের দিক থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। আশ্রমের পিছনে পাহাড়ের ধারে, গাছের ছায়ায়, বেড়ায় ঘেরা অঞ্চলটিতে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে অনুভব করতে লাগলাম এখানকার অনাবিল সৌন্দর্যকে। হয়তো ঠিক এমন ভাবেই মুগ্ধ হয়ে গাঁধীজি কৌশানিকে আখ্যা দিয়েছিলেন ‘দ্য সুইজারল্যান্ড অব ইন্ডিয়া’। এখানে শুধু পাহাড়ের গায়ে ধাপে ধাপে সাজানো পাইন গাছের আড়ালে বা ব্যালকনি থেকে পাহাড়চূড়া দেখেই বেশ কয়েক দিন কেটে যায়। এখানকার রুদ্রনাথ গুহা ও ঝরনা এবং অবশ্যই কৌশানি শাল ফ্যাক্টরি পর্যটকদের অবশ্য গন্তব্য।

বিনসর

পরের দিন কৌশানি থেকে প্রায় ৭০ কিমি দূরে অবস্থিত বিনসরের ঘন জঙ্গলের উদ্দেশে রওনা হলাম। গাড়িতে কৌশানি থেকে বিনসর পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। কিছু দূর গাড়ি যাওয়ার পর বাকিটা পায়ে হেঁটে পাহাড়ে উঠতে হয়। আর সেই চলার মাঝেই অহরহ বিভিন্ন জন্তু-জানোয়ারের ডাক কানে আসতে থাকে। ভাগ্যে থাকলে দিনের আলোতে দেখা মিলতে পারে হরিণ বা অন্য কোনও প্রাণীর। বিনসরের এই গা ছমছমে পরিবেশে কেএমভিএন-এর রিসর্টে রাতে থাকারও ব্যবস্থা আছে। আমাদের ড্রাইভার বললেন যে সন্ধের পর এখানে না কি বিদ্যুৎ থাকে না। তাই অনেকেই জঙ্গলের অনুভূতি পেতে এখানে অন্তত একটি রাত কাটিয়ে থাকেন। দিনের আলো থাকতে থাকতেই কৌশানিতে হোটেলে ফিরে এলাম।

কোথায় থাকবেন?

কেএমভিএন টুরিস্ট রেস্ট হাউজ,  www.kmvn.gov.in, যোগাযোগ: [email protected] কৌশানিতে দ্বিশয্যা প্রতি দিন: ১৭০০ টাকা থেকে শুরু। বিনসরে দ্বিশয্যা ঘর প্রতি রাত্রি ৬৪০০ থেকে শুরু।

হোটেল সাগর: Sumanhotels.com,স্ট্যান্ডার্ড রুম এর ভাড়া ৯০০ টাকা থেকে শুরু। আরও বিশদ বিবরণের জন্য দেখুন www.kausanihotel.com/tariff-packages.

চৌকরি

কৌশানিতে দু’রাত কাটিয়ে এ বার গন্তব্য চৌকরি। গাড়িতে কৌশানি থেকে আলমোড়া হয়ে চৌকরি পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। পথে যাওয়ার সময় দু’চোখ ভরে উপভোগ করলাম আলমোড়ার অপরূপ সৌন্দর্য। যাওয়ার পথে গোলু চেতনা, বৈজনাথ, বাগেশ্বর, সোমেশ্বরের মতো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মন্দির পড়ে। অনেকে মনের ইচ্ছে জানিয়ে তা পূর্ণ হওয়ার আশায় একটি ঘণ্টা বেঁধে দেয় এই গোলু চেতনা দেবীর মন্দিরে আর তাই মন্দির চত্বরে প্রবেশ করলে চোখে পড়ে চারিদিকে ঘিরে থাকা বিভিন্ন আকারের ঘণ্টা। চৌকরিতে পৌঁছনোর পরেও সারা রাত ধরে হল তুমুল বৃষ্টি।
পরের দিন বেশ ভোরে বেরিয়ে পড়লাম আরও ভাল করে হিমালয়ের চূড়া দেখার অদম্য ইচ্ছে নিয়ে। আসলে তত দিনে প্রকৃতির উজাড় করা সম্ভার যতটা সম্ভব চেটেপুটে উপভোগ করেছি দু’চোখ ভরে আর তার সঙ্গে লোভটাও আরও বেড়েছে, আর তাই কিছুতেই মন যেন তুষ্ট হতে চাইছিল না। তাই হোটেল থেকে বেরিয়ে হেঁটে সামনের পাহাড়ের মাথায় পৌঁছে গেলাম। প্রত্যেকটা পদে পদে প্রকৃতি যেন তার রূপলাবণ্য সাজিয়ে বসে আছে। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে দু’চোখ ভরে দেখলাম ওই দূরে রাশি রাশি গিরিশৃঙ্গ মাথায় বরফের সাদা মুকুট পরে রাজার আসনে অধিষ্ঠিত। নীচের বাড়িগুলো অনেকটা ছোট ছোট দেশলাইয়ের বাক্সের মতো দেখতে লাগছে। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে ওই যে দূরে দেখা যাচ্ছে আমাদের রিসর্ট। দেখতে দেখতে মনে হল প্রকৃতি তার সমস্ত রহস্যময়তা ও সৃষ্টি উজাড় করে দিয়েছে আমাদের। আর আমরা তাকেই ধ্বংস করে চলেছি।

চৌকরি হল মেঘের দেশ। পরের দিন সকালে হোটেল থেকে বেরনোর সময় হঠাৎ চারিদিক মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেল আর শুরু হল অঝোরে বৃষ্টি। বৃষ্টি থামার পর যা দৃশ্য দেখলাম তার জন্য চৌকরি আমার মনের চিলেকোঠায় সব সময় আলাদা জায়গা করে নেবে। দেখলাম চারিদিকে আবছা অন্ধকার, আকাশে কুণ্ডলীকৃত কালো মেঘ আর ওই দূরে গিরিশৃঙ্গ। শ্বেতশুভ্র সাদা চূড়াগুলি থেকে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠেছে, যেন মনে হচ্ছে প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে কোনও এক অন্ধকার ঘরে আলো জ্বালিয়ে উজ্জ্বল করে রেখেছে তার অভূতপূর্ব এই সৃষ্টি দিয়ে। চৌকরিতে হিমালয়ের এই নয়নভোলানো সৌন্দর্য মনের মধ্যে নিয়ে এ বার ফেরার পালা! সেই আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা, পাইনের জঙ্গলের ভিতর দিয়ে গাড়ি এগিয়ে চলল সমতলের দিকে।
কোথায় থাকবেন?

কেএমভিএন টুরিস্ট রেস্ট হাউজ, দ্বিশয্যা ঘর দৈনিক ১৪৫০ টাকা । www.kmvn.gov.in, [email protected]

ওজস্বী রিসর্ট, www.ojaswiresort.com, [email protected] [email protected], ডিলাক্স রুম দৌনিক ২৭০০ টাকা ও অতিরিক্ত কর। আরও বিশদ বিবরণের জন্য দেখুন www.ojaswiresort.com/chaukori/tariff/tariff.html

কী ভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে ট্রেন বা বিমানে দিল্লি। দিল্লি থেকে ট্রেন, বিমান অথবা সড়কপথে পৌঁছতে পারেন নৈনিতাল। পুরনো ও নতুন দিল্লি স্টেশন থেকে কাঠগোদাম পর্যন্ত ট্রেন আছে। দিল্লি থেকে সড়কপথে নৈনিতাল পৌঁছতে প্রায় ৬ ঘণ্টা লাগে। নৈনিতালের কাছাকাছি বিমানবন্দর পান্থগড়। কাঠগোদাম থেকে গাড়ি নিয়ে পুরোটা ঘোরা ভাল।

মনে রাখবেন, গাড়ি ও হোটেল বুকিংয়ের সময় সাম্প্রতিকতম দর জেনে নেবেন। মরসুম ভেদে এই দর ওঠানামা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *