Tue. Jul 14th, 2020

mytraveladvisor.co.in

Tour, Travel Expert and Influencer

চলুন ঘুরে আসি মধ্য প্রদেশের সবচেয়ে বড় অরণ্য কানহা ন্যাশেনাল পার্ক থেকে

1 min read
kanha national park

kanha national park

কানহা ন্যাশেনাল পার্ক

পৃথিবীতে ক্রমশ বনভূমি কমে যাচ্ছে। নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে গাছ, নষ্ট করা হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। শহর গড়ার জন্য এই নির্মমতা মানুষ দেখিয়ে শেষ করে দিচ্ছে স্বাভাবিক প্রকৃতিকে। এর জন্য জীব বৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে একের পর এক প্রাণীকুল ও উদ্ভিদকূল। এর জন্য দায়ী মানুষ ও তাদের কৃত্রিমতা আর অতিরিক্ত সভ্যতা স্থাপনের ইচ্ছে। তারা হয় তো সভ্যতা শব্দের সঠিক অর্থই জানে না তাই প্রকৃতির সাথে বর্বরতা করে চলছে প্রতিনিয়ত। তাহলে আমরা কি কোনও দিন আর পুরনো পৃথিবীকে দেখতে পাবো না? কোনও দিন আর সবুজ শ্যামল গাছের ছায়ায় বসে প্রকৃতির আরাম উপভোগ করতে পারবো না? এর জন্যই আবার মানুষ তৈরি করছে কৃত্রিম উদ্যান ও বন, যেখানে সংরক্ষণ করছে তারা বন্য প্রানীদের। যাদের ছাড়া জীব বৈচিত্র্য অচল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বনগুলিকে সংরক্ষণ করার মাধ্যমেও তারা পরিবেশ বাঁচাচ্ছে।

kanha national park
kanha national park

তেমনই এক জাতীয় উদ্যানের নাম কানহা জাতীয় উদ্যান বা কানহা ন্যাশেনাল পার্ক। এটি মধ্য প্রদেশের সবচেয়ে বড় ন্যাশেনাল পার্ক। ১৯৫৫ সালে পার্কটি তৈরি হয়, এবং কানহা টাইগার রিজার্ভ টি গড়ে ওঠে ১৯৭৩ সালে। বিখ্যাত দশটি ট্যুরিস্ট প্লেসের মধ্যে এই উদ্যানটি অন্যতম। এখানে কিছু প্রাণী নিজেদের মত সংখ্যায় বেড়ে ওঠে। প্রাণীগুলো হল, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, ইন্ডিয়ান লেপার্ড, স্লথ বিয়ার, বারসিঙ্গা এবং ইন্ডিয়ান ওয়াইল্ড ডগ। রুডিয়ার্ড কিপলিং-এর বিখ্যাত দ্য জাঙ্গাল বুকে এই জঙ্গলের কথাই বলা হয়েছে। এবং এই উপন্যাসের মাধ্যমেই কানহা জাতীয় উদ্যান একটি অফিসিয়াল ম্যাসকটের নাম তুলে আনে তা হল ভুরসিং বা বারসিঙ্গা, যেটি হল আসলে সোয়াম্প ডিয়ার। এখানে প্রায় এক হাজারের বেশি ফুল গাছ আছে, এছাড়া নীচু বনভূমিতে শাল গাছের বন রয়েছে এবং উঁচু ভূমিতে রয়েছে প্রচুর বাঁশগাছ। সুন্দরবন বাদ দিয়ে কেবল এখানেই প্রচুর পরিমাণে সোয়াম্প ডিয়ার বা বারসিঙ্গা দেখা যায়। একটা কথা এখানে বলে রাখা ভালো, কানহা ছাড়া আর কোথাও এই বারসিঙ্গাদের দেখা যায় না।

প্রত্যেক বছর প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার লোক কানহা দেখতে আসেন। এটি ক্রমে একটি জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট হয়ে ওঠে। আর এখানে বন্যপ্রাণীকে যত্নে লালন করা হয় অন্য কারণে, কারণ এখানে থাকা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং ইন্ডিয়ান লেপার্ডদের খাদ্য যোগানো। ফলত এই স্থান ক্রমে বন্যপ্রাণীদের জন্য আদর্শ স্থান হয়ে উঠছে। এখানে হাতির পিঠে করে বন ভ্রমণ করার সুব্যবস্থা রয়েছে। এই বনটি এতটাই বৃহৎ যে, এখানে আসা ট্যুরিস্টরা গ্যারান্টি সহকারে বাঘের দেখা পাবেন বলে দাবি করেন কর্তৃপক্ষ।

জঙ্গল দেখতে যারা ভালবাসেন তারা আর দেরি না করে চলে যান কানহা ন্যাশেনাল পার্ক দেখতে…।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *