Tue. Jul 14th, 2020

mytraveladvisor.co.in

Tour, Travel Expert and Influencer

চলুন ঘুরে আসি ভূস্বর্গ কাশ্মীরে অবস্থিত সেরা দশটি জায়গা থেকে

1 min read
Heaven on earth kashmir

Heaven on earth kashmir

চলুন ঘুরে আসি ভূস্বর্গ কাশ্মীরে অবস্থিত সেরা দশটি জায়গা থেকে.

কাশ্মীরে যাইনি বা যাবে বলে দিনের পর দিন প্ল্যান করেনি এমন ভারতীয় বোধহয় দুর্লভ। সাধে কি কাশ্মীরকে ভূস্বর্গ’ বলা হয়! স্বর্গের মতই অপরূপ এই কাশ্মীরকে প্রত্যক্ষ করাটা ভাগ্যেরই ব্যপার। কিন্তু কাশ্মীরের মত জায়গায় গিয়ে মানুষ বরাবরই খেই হারিয়ে ফেলে, কোনটা দেখব আর কোনটা দেখব না এটা নিয়ে দোটানায় পড়ে মানুষ।  তাই আজকে একটা সহজ গাইড নিয়ে চলে এসেছি। কাশ্মীরের দশটা দর্শনীয় স্থান, যেগুলোতে না গেলে আপনি মিস করবেন অনেক কিছু…

Heaven on earth kashmir
Heaven on earth kashmir

১) শ্রীনগরঃ এটি জম্মু ও কাশ্মীরের সামার ক্যাপিটাল। এই শহরটি ঝেলুম নদীর তীরে কাশ্মীর উপত্যকায় অবস্থিত। এখানকার হ্রদ, পাহাড়, সবুজ মাঠ, বার্চ ও উইলো গাছে পূর্ণ অরণ্য পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষনীয়। এখানকার বিভিন্ন কুটির শিল্পও বিখ্যাত। এর মধ্যে কার্পেট, রেশম ও পশমের বস্ত্র, কাঠ ও চামড়ার কাজ জনপ্রিয়। শহরের ভিতরে ও বাইরে বহু প্রাচীন ভবন ও ধ্বংসাবশেষ আছে। এটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের জন্য এর অনেক খ্যাতি আছে সারা বিশ্বে।

২) ডাল লেকঃ এই লেক শ্রীনগরেই অবস্থিত। এর অনেক নাম, যেমন- লেক অব ফ্লাওয়ার্স, জুয়েল ইন দ্য ক্রাউন অব কাশ্মীর, শ্রীনগরস জুয়েল ইত্যাদি। এই লেকে জলজ ফুলের চাষ করা হয়। এর অসাধারণ রূপ বর্ণনা এটিকে দেখলেই আপনারা বুঝতে পারবেন।

৩) গুলমার্গঃ শীতকালে এখানে প্রায় মাইনাস দশ থেকে পনেরো ডিগ্রী তাপমাত্রা থাকে। ট্রেকিং এর জন্যও এই স্থান খুবই প্রসিদ্ধ। শীতকালে সাদা চাদরে ঢাকা গুলমার্গ পর্যটকদের প্রিয় ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন।

ট্রেকিং এর জন্যও এই স্থান খুবই প্রসিদ্ধ। শীতকালে সাদা চাদরে ঢাকা গুলমার্গ পর্যটকদের প্রিয় ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন।

৪) শেষনাগ লেকঃ এটি শ্রীনগর থেকে ৬৪.৪ কিমি দূরে অবস্থিত। এর ব্যাস প্রায় দেড় কিলোমিটার। জনশ্রুত আছে এখানে নাকি শেষনাগের বাস, খুব পুণ্য অর্জনকারীদের তিনি দেখা দেন, আর তাকে দেখতেই বহু দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে। বলা হয়, যখন দেবাদিদেব মাতা পার্বতীকে অমরকথা বলার জন্য অমরনাথে যাচ্ছিলেন, তখন শেষনাগকে এই ঝিলে ছেড়ে গিয়েছিলেন। এবং কেউ নাকি এই ঝিলকে পার করতে পারেনা।

৫) সোনমার্গঃ এটি কাশ্মীরের থেকে ৭৯.৪ কিমি দূরে অবস্থিত। সোনিমার্গ অঞ্চলটি সিন্ধু নালার তীরে একটি উপত্যকায় অবস্থিত। এটি মনোরম হিমালয় শিখরের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। সোনমার্গ যেতে হলে সিন্ধু নালা পেরিয়ে যেতে হয়। এটি কাশ্মীর উপত্যকায় ঝিলম নদীর প্রধান শাখা। এটি ষাট মেইল দীর্ঘ একটি ঊর্ধ্বমুখী উপত্যকা এবং গভীর পাহারি গিরিখাত, যা তৃণভূমিতে গিয়ে মিশেছে। পাহাড়ের ঢালে দেখা যায় গ্রামগুলি।

৬) মুঘল গার্ডেনঃ এখানে পুরাতন মুঘল ও পারসিয়ান স্থাপত্যের কারুকার্য দেখা যায়। চারবাগের মতন করে এই গার্ডেনটিকে নির্মাণ করা হয়েছে। এখানকার স্থাপত্য সত্যই নজর কাড়ার মতন। কাশ্মীরে গেলে মুঘল গার্ডেন না দেখা ব্যর্থতা। এটি শ্রীনগর থেকে ৭০.৮ কিমি দূরে অবস্থিত।

৭)  টিউলিপ গার্ডেনঃ এটি শ্রীনগরের নিকটে, ১০.৫ কিমি দূরে অবস্থিত। এখানে বিভিন্ন রঙের ও জাতের টিউলিপ ফুল দেখা যায়। এখানে বহু ছবির শ্যুটিং হওয়ার কারণেও এই জায়গাটি জনপ্রিয়। আবার এই গার্ডেনের অপার্থিব সৌন্দর্যও একে খ্যাতির শিখরে নিয়ে গিয়েছে।

৮) পাহালগামঃ এখানেও বিভিন্ন ছবির শ্যুটিং এর কারণে এই জায়গাটির খুব খ্যাতি রয়েছে। একে মিনি সুইতজারল্যান্ড অব ইন্ডিয়াও বলা হয়। রিজার্ভ গাড়ি নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন বেতাব ভ্যালি, চন্দন বাড়ি, আরু ভ্যালি সহ আরো অনেক স্পট।

৯) পরি মহলঃ একে দ্য প্যালেস অব ফেয়ারিস বা পরিদের প্রাসাদ –ও বলা হয়। এখানে একটি মনুমেন্ট আছে, তাছাড়াও এখানে গেলে আপনি ইসলামিক স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শণ দেখতে পাবেন। এটি জারবারওয়ান পর্বতের শিখরে অবস্থিত।

১০) চার চিনারঃ  এটি রূপা ল্যাঙ্কের নীচে অবস্থিত, এবং এটি ডাল লেকের একটি ছোট দ্বীপ। এই দ্বীপের চারিদিকে অনেক গুলো চিনার গাছ দিয়ে ঘিরে রেখেছে। বলা হয় মুঘল শাসক ঔরঙ্গজেব এই রূপা ল্যাংকটি নির্মাণ করেছিলেন। এই চার চিনারের রূপ বর্ণনা করতে গিয়ে শব্দের অভাব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *