Sun. Aug 9th, 2020

mytraveladvisor.co.in

Tour, Travel Expert and Influencer

এই বসন্তে শান্তির খোঁজে শান্তিনিকেতনে

1 min read
Santiniketan

santiniketan

শান্তির খোঁজে শান্তিনিকেতনে

কিছু কিছু স্থানের সাথে আত্মা লেগে থাকে। সেখানে গেলেই নস্টালজিক হয়ে পড়ি আমরা। ঘোরা হয়ে গেলেও বারবার যেতে ইচ্ছে করে আমাদের সেই সমস্ত জায়গায়। এমন নস্টালজিয়া সব জায়গার সাথে জড়িত থাকে না। এই জায়গাগুলো খুব বিশেষ নিজের নিজের কাছে। পশ্চিমবঙ্গের এমন অনেক জায়গা বিশেষ হয়ে উঠছে ক্রমশ ভ্রমণ প্রিয় মানুষদের কাছে। সেই সব জায়গায় যতই কাজ থাকুক না কেন , সব সময় ইচ্ছে করে ছুটে চলে যাই অন্তত এক মুহূর্তের জন্য হলেও। সেখানে গেলেই যেন অক্সিজেন বেশি পাই আমরা। আজ সেই রকমেরই এক জায়গার সম্মন্ধে কথা হবে। জায়গাটির নাম ‘শান্তিনিকেতন’।

santiniketan
santiniketan

শান্তিনিকেতন শুধু কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্য পরিচিত নয়, এটির অসম্ভব সুন্দর মায়াবী টান রয়েছে। কিছুটা অবশ্যই কোপাই নদী এবং সোনাঝুড়ির জঙ্গলের জন্যেও। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর নিভৃতে ঈশ্বর চিন্তা এবং ধর্ম আলোচনার উদ্দেশ্যে বোলপুর শহরের উত্তর পশ্চিম অংশে এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে ব্রহ্ম বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা কালক্রমে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ নেয়। এখানে মূলত যেই যেই ঘোরার জায়গা আছে তার মধ্যে আছে বিশ্ব ভারতী ইউনিভার্সিটি, এবং তার মধ্যে বিশ্ব ভারতী মিউজিয়াম, তিন পাহাড়, তালধ্বজ, উপাসনা মন্দির, ছাতিমতলা, দেহলী, নতুন বাড়ি, শালবীথি, আম্রকুঞ্জ ইত্যাদি। এছাড়া আপনি ঘুরে নিতে পারেন কোপাই নদীর ধার, সৃজনী শিল্পগ্রাম থেকে কিনে নিতে পারেন বিভিন্ন হস্তশিল্প, শাড়ি ইত্যাদি। অবশ্য শান্তিনিকেতনে আরেক কেনাকাটির জায়গা আছে, তার নাম শনিবারের হাট। এটি সোনাঝুড়ির মেলা নামেও খ্যাত। এখানে আদিবাসীদের নৃত্য খুবই জনপ্রিয়। আরেকটি জিনিস , যেটি ছাড়া শান্তিনিকেতন শান্তিনিকেতনই নয়। তা হল বাউল সম্প্রদায় ও তাদের সংগীত। শান্তিনিকেতনের প্রায় সব জায়গাতেই এই বাউলের দেখা মেলে। এদের গানে প্রায়শই উঠে আসে মানুষের জীবন, সহজিয়া ধর্ম ও দেহতত্ত্ব। শান্তিনিকেতন দেখা শেষ হলে আপনারা প্রান্তিক স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে কঙ্কালিতলা মন্দির ঘুরে দেখতে পারেন। চাইলে পূজোও দিতে পারেন। এই মন্দির হল ভারতের ৫১টি সতীপীঠের একটি। এখানে সতীমায়ের কাঁকাল পড়ে ছিল। সব মিলিয়ে শান্তিনিকেতন একটি উইকেন্ড ট্যুরের জন্য একেবারে আদর্শ স্থান।

santiniketan
santiniketan

কিভাবে যাবেন শান্তিনিকেতন? আপনারা চাইলে কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে চলে যেতে পারেন। কলকাতা থেকে শান্তিনিকেতন ১৬১ কিমি দূরত্বে। অথবা ট্রেনে যেতে চাইলে কবিগুরু এক্সপ্রেস অথবা শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস ধরতে পারেন। পৌষ মেলা বা বসন্ত উৎসব এখানে বিশেষ ভাবে পালিত হয়। তবে সেই সময় হোটেল ভাড়া থাকে বেশ চড়া। ভালো হোটেল ছ’শ থেকে পনেরোশ’র মধ্যে পেয়ে যাবেন। এছাড়া সাইড সিন ঘুরে দেখতে চাইলে ভাড়া করতে পারেন ভ্যান অথবা টোটো।

তাহলে আর কিসের অপেক্ষা? এবারের উইকেন্ডের ছুটিটাইয় চলে যান শান্তিনিকেতন, আর প্রত্যক্ষ করে আসুন এক অন্য নস্টালজিয়া…।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *