Tue. Jul 14th, 2020

mytraveladvisor.co.in

Tour, Travel Expert and Influencer

অজানা আকবরী সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরে আসুন রাজমহল থেকে | Rajmahal in Jharkhand

1 min read
অজানা আকবরী সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরে আসুন রাজমহল থেকে | Rajmahal in Jharkhand

অজানা আকবরী সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরে আসুন রাজমহল থেকে | Rajmahal in Jharkhand

অজানা আকবরী সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরে আসুন রাজমহল থেকে | Rajmahal in Jharkhand
রাজমহল   অধুনা ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সাহেবগঞ্জ জেলার একটি  ছোট্ট জনপদ l যদিও বাঙালির ভ্রমণ মানচিত্রে এখনো সেভাবে জায়গা পায়নি  কিন্তু গঙ্গার পশ্চিম পাড়ের এই স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ইতিহাস কিন্তু আপনার ভালো লাগবেই l
         “রাজমহল” এর ইতিহাস টা একটু বলে রাখি l এর আগের নাম ‘আগমহল’ l সম্রাট আকবর এর সেনাপতি মানসিংহ ১৫৯২ সালে এই স্থানের নাম রাখেন “রাজমহল” l মানসিংহ ১৫৯৫ সালে “রাজমহল” কে  বেঙ্গল ডিভিশন এর রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন l তখন এর নাম হয় আকবরনগর। কিন্তু কীভাবে এমন হল?
rajmahal jharkhand
rajmahal jharkhand
হয়েছিল এক বিশাল যুদ্ধ, যা রাজমহলের যুদ্ধ নামে খ্যাত। জানা যায়, দাউদ খানের কাছ থেকে বাংলা জয়ের জন্য বাদশাহ আকবর তার আরও এক সেনাপতি খান-ই-জাহান হোসেন কুলি বেগকে প্রেরণ করেন। দাউদ খানের সেনাপতি ছিলেন কালাপাহাড়, জুনায়েদ ও কুতলু খান। তার পক্ষে প্রায় তিন হাজার সেনা তিনি তেলিয়াগড়িতে জমায়েত করেন।
এখানে মুঘলদের সাথে আফগানদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে মুঘলরা তেলিয়াগড়ি দখল করে নেয়। মুঘলরা এরপর রাজমহলের দিকে এগিয়ে যায়। মুঘল সেনাপতি হোসেন কুলি বেগ কর্তৃক প্রায় চারমাস রাজমহল অবরুদ্ধ ছিল। মুঘলদের জন্য অতিরিক্ত সাহায্য হিসেবে বিহারের শাসক মুজাফফর খান পাঁচ হাজার ঘোড়সওয়ার এবং নৌপথে রসদ নিয়ে এগিয়ে আসেন। শক্তিমত্তার দিক থেকে মুঘলরা এগিয়ে থাকলেও তারা জলবায়ুগত সমস্যায় পতিত হয়।
অজানা আকবরী সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরে আসুন রাজমহল থেকে | Rajmahal in Jharkhand
অজানা আকবরী সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরে আসুন রাজমহল থেকে | Rajmahal in Jharkhand
এরপর রাজমহলে মুঘলদের এই সম্মিলিত বাহিনীর সাথে কররানীদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। দাউদ খান, জুনায়েদ, কালাপাহাড় ও কুতলু খান যথাক্রমে সেনাবাহিনীর মধ্য, বাম, ডান ও অগ্রভাগের নেতৃত্ব দেন।
এই যুদ্ধে কররানীরা পরাজিত হয়। দাউদ খান ধরা পড়েন এবং তাকে হত্যা করা হয়। কররানী রাজবংশের পতনের ফলে বাংলা সালতানাতের সমাপ্তি ঘটে এবং বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়। তবে ঈসা খানের নেতৃত্বে বারো ভূইয়ারা মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখেন। ফলে বাংলায় পুরোপুরিভাবে মুঘলদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এখানে মানসিংহ নির্মিত ‘জামি মসজিদ ‘  এর স্থাপত্য শৈলী আপনাকে মুগ্ধ করবেই l আর আছে গঙ্গার পাড়ে  ‘সংঘি’ দালান’ l এটি একটি  রাজ প্রাসাদ এর অংশ l শোনা যায় রানীরা জামি মসজিদ থেকে মাটির তলার সুড়ঙ্গ পেরিয়ে ১২ কিলোমিটার দূরের এই দালান এ স্নান করতে আসতেন l জামি মসজিদ এ সেই সুড়ঙ্গের প্রবেশ পথ আজও দৃশ্যমান l
যদি আপনি প্রকৃতি প্রেমী হন  তাহলে অবশ্যই ঘুরে দেখবেন’ ‘মোতি ঝর্ণা ‘ l তবে ভরা শীতে ঝর্ণার তির তিরে জল আমাদের নিরাশ করলেও , এর আশেপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে যাত্রাপথের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিয়েছে l
 বাড়ি ফিরে এসো সন্ধ্যে নামার আগে l কারণ বিকেল ৪.৩০-এর পর আর স্টিমার পাওয়া যাবে না l ফেরার সময় প্রায় দৌড়ে দৌড়ে দেখা  ‘বারাদারি  মসজিদ ‘ আর ‘ আকবরি  মসজিদ ‘ ও ভোলবার নয় l ফেরার সময় স্টিমারের ছাদে বসে সূর্যাস্তের শোভা ভুলতে পারবেন না l

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *